
ভালোবেসে বিয়ে করেন কলেজে পড়ুয়া ছাত্র মাহমুদুল হাসান রিপন । তাদের এ বিয়ে মেনে নেয়নি পরিবার। ভালোলাগার প্রিয় মানুষটির সাথে সংসার গড়তে চলে যান ঢাকার গাজীপুরে টঙ্গী এলাকায়।
তাদের রয়েছে ৬ মাস বয়সী একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান। প্রিয় সন্তানের দুধ গরম করার সময় সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণে পরিবারের সবাই নিহত হন। ফলে শেষ হয়ে যায় জীবনের সাথে রিপনের স্বপ্ন। সব চুরমার হয়ে গেল। হায়রে জীবন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে স্বামী-স্ত্রী ২ জনের লাশ নিজ গ্রাম তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ঘোষপাড়া গ্রামে দাফন করা হয়েছে। এর আগে গত রবিবার (৩ আগস্ট) তাদের ছয় মাস বয়সী শিশু আবু রায়হানের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলার মিরেরবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় নিয়ে পরিবার নিয়ে থাকতেন মাহমুদুল হাসান রিপন।
গত রবিবার (৩ আগস্ট) সকালে একমাত্র সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর জন্য গরম করার সময় সিলিন্ডার গ্যাসের চুলায় আগুন ধরাতে যান রিপনের স্ত্রী । দিয়াশালাই দিয়ে আগুন জ্বালানোর সময় সাথে সাথে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় এ দস্পতি সহ তাদের একমাত্র সন্তান আবু রায়হানকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদেরকে নিবিড় পরিচর্জা কেন্দ্র( আইসিইউ) নিয়ে ভর্তি করা হয়।
গত রবিবার সকালেই শিশু রায়হান মারা যায়। বুধবার মধ্যেরাতে শিশুটির মা হাফিজা আক্তার মারা যায়। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান রিপন মারা যায়। অবশেষে নিবিড় পরিচর্জা কেন্দ্র (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু ঘটে।
গতকাল নিজ গ্রামে তাদের মরদেহ পৌঁছলে হাজার হাজার লোকজন প্রিয় সন্তানদের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।পরে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির একমাত্র যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার এসময় উপস্থিত হয়ে তাদের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ সময় নিহত রিপনের পরিবার কে সান্ত্বনা দেন তিনি।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী মো. রহুল আমিন বলেন, প্রথমে শিশু রায়হান এর পর রিপন ও তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। রিপন ছিলেন অত্যান্ত মেধাবী। পড়ালেখার পাশাপাশি একটি বেসরকারী কম্পানিতে চাকুরি করতেন। গত রবিবারে শিশুর জন্য পাশের দোকান থেকে দুধ কিনে স্ত্রীকে বলেন তা গরম করে সন্তানকে খাওয়ানোর জন্য।
হঠাৎ আগুন ধরায় নেবাতে যান রিপন এ সময় তিনিও গুরতর আহত হন। তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে আজ দাফন হল এ দস্পতির। রিপনের বাবা লিটন মিয়া ও মা ছেলের একই পরিবারে ৩ জনকে হারিয়ে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ছেন।