লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (২০) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামবাসী সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে (৪০) দুটি গরুসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি বিজিবির হেফাজতে আছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমতপুর গাটিয়ারভিটা সীমান্তে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত মো. মিজানুর রহমান মিজান (২০) উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমতপুর গাটিয়ারভিটা গ্রামের মো. মফিজুল ইসলামের ছেলে।
বিজিবি, সীমান্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের কোচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি থানার ফুলকাডাবরী গ্রামের ডাঙ্গিরটারী সীমন্তের বাংলাদেশ ভারত প্রধান পিলার ৮২৬ নম্বরের ১ নম্বর উপপিলার সংলগ্ন শূণ্যরেখার অপর পাশে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের রহমতপুর গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙ্গারবাড়ী এলাকা অবস্থিত।
সীমান্তের ওই এলাকায় ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে শূণ্যরেখার দুইপাশে উভয় দেশের কৃষকেরা তাদের জমি চাষাবাদ করেন। সোমবার সকালে মিজানুর রহমান মিজান নিজের ভুট্টা খেত পরিচর্যা ও ঘাস আনতে গেলে ভারতের মেখলিগঞ্জ ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোমতী ক্যাম্পের টহলদলের এক সদস্য তাকে ডেকে একটি ভুট্টার মোচা দেখতে চান।
মিজান ভুট্টার মোচা দেওয়ার সময় পাশে থাকা অপর এক বিএসএফ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে তার ডান কাঁধে গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তিনি দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে আসেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিয়ে যান। এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে পাশাপাশি থাকা বাংলাদেশ- ভারত প্রধান পিলার ৮২৮ নম্বরের ৩ থেকে ৪ নম্বও উপপিলার সংলগ্ন শূণ্যরেখার জমি থেকে ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে (৪০) দুটি গরুসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসেন।
সহদেব ভারতের কোচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি থানার ফুলকাডাবরী গ্রামের হরেন্দ্র নাথ বর্মণের ছেলে।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘স্থানীয় একজন কৃষক ওই সীমান্তে ঘাস কাটতে গেলে বিএসএফ গুলি ছুড়ে। এতে তার কাঁধে গুলি লাগে। এর প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা এক ভারতীয়কে দুটি গরু সহ আটক করে নিয়ে আসে। আহত ব্যক্তি অজ্ঞাত স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভারতীয় ব্যক্তি বিজিবির কাছে রয়েছে বলে শুনেছি।’
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বলেন, 'বিএসএফের এই অনাকাঙ্খিত গুলিবর্ষনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের প্রস্ততি চলছে। সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।'