১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি| বিকাল ৫:২৫| বসন্তকাল|
শিরোনাম:
মনোহরদীতে ৯০ ব্যাচের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মনোহরদীতে ফসলি জমির মাটি কাটায় ভেকু ও ট্রলি জব্দ মনোহরদীতে ৭টি অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা শীতের রাতে কম্বল নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে মনোহরদীর ইউএনও নরসিংদী-৪ আসনে প্রস্তাবকারীর স্বাক্ষর জাল করায় এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ ও ফেন্সিডিল জব্দ ভৈরবে সাড়ে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই বোন আটক পাইকগাছায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে বড়দিন উদযাপন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর হলেন সৈয়দ জেনিথ রায়হান মনোহরদীতে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটায় পাঁচজনের কারাদণ্ড

প্রাথমিকে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শ্রেণি কার্যক্রমকে আনন্দময় করে তুলেছে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৩,
  • 460 Time View

মো. আমিরুল ইসলাম:

তথ্য-প্রযুক্তিই আগামী দিনে জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবে এবং শিক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধন করবে। তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করে প্রাথমিক শিক্ষায় এর সফল সংযোজন ঘটানো হয়েছে। আমাদের শিক্ষার নানা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের শিক্ষাকে টেকসই ও মানসম্মত পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।

ই-বুক প্রণয়ন, শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠ উপস্থাপন আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগোপযোগী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করছে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে বিশ্বায়নের যুগে উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার শিখন-শেখানো পদ্ধতিতে তথ্যপ্রযুক্তির সংযোগ ঘটানো হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে কাজে লাগানোর মাধ্যমে কঠিন শ্রেণি কার্যক্রমকে আনন্দময় করে তোলা হচ্ছে।

দেশে শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বেশ আগেই শুরু হয়েছে। তবে করোনাকালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে প্রযুক্তি ব্যবহারে আরো উদ্যোগী করেছে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষার গুরুত্ব সামনে এসেছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় ডিজিটাল সেবা সমূহ: মোবাইলের মাধ্যমে শতভাগ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে পাঠদান, অনলাইনে শিক্ষক বদলি, অনলাইনে শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল তৈরি, ইএফটি এর মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রদান, আইপিইএমআইএস’র মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের তথ্য প্রদান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই (ইন্টারনেট) সংযোগ, ই-মনিটরিং, পিইপিএমআইএস’র মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোর তথ্য প্রদান, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে জুম ও গুগলমিট অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে পাঠদান, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে ঘরে বসে শিখি পাঠদান, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বেতার ও কমিউনিটি রেডিও এর মাধ্যমে ঘরে বসে শিখি,

ডিজিটাল টেক্সটবুক ব্যবহার করে পাঠদান, ই-নথির মাধ্যমে শিক্ষকদের বিভিন্ন আবেদন অনলাইনে নিস্পত্তি করা, ই-জিপি (ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট), শিক্ষক বাতায়ন ও মুক্তপাঠ, ইনোভেশন, হোয়াটসঅ্যাপ মনিটরিং, জাতীয় তথ্য বাতায়নের সঙ্গে শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করণ, অনলাইনে জন্মনিবন্ধন যাচাই, জিপিএফ স্লিপ উত্তোলন, পে ফিক্সেশনের মাধ্যমে ইনক্রিমেন্টের কপি সংগ্রহ, এনসিটিবি’র ওয়েবসাইট থেকে পাঠ্য বই, শিক্ষক সহায়িকা, শিক্ষক সংস্করণ ও শিক্ষক নির্দেশিকা ডাউনলোড দিয়ে ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ ভেকসিনের রেজিষ্ট্রেশন ও সনদ প্রদান।

স্বাধীনতার পরপরই ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু যুগান্তকারী দু:সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করেন। শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, পাশাপাশি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারিকরণ করে চলেছেন। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি এসডিজি-৪ বাস্তবায়নে ইতিবাচক বহিঃপ্রকাশ।

বর্তমান সরকার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকর্ষণীয় ও মনোরম পরিবেশে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি চালু করেন। ৩৭ হাজার প্রাক প্রাথমিক শিক্ষককে শিশু মনোবিজ্ঞানসহ প্রাক প্রাথমিক পাঠদানে বিশেষজ্ঞ করে তুলেছেন। পূর্বে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্ধেক নতুন আর অর্ধেক পুরাতন বই দেওয়া হতো। বছরের পর বছর পুরাতন বই দেয়ার ফলে বইয়ের ভেতরে অনেক পাতার অস্তিত্ব পাওয়া যেত না।

বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকে প্রাক প্রাথমিক, ইবতেদায়ি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত আকর্ষণীয় রঙয়ে বই ছাপাসহ পুরো বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বই প্রদান করছেন। ২০০৯ সালে পূর্বে কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি ও মাদরাসায় বিনামূল্যে বই দেওয়া হতো না। সারাদেশে বই বিতরণে ঐতিহাসিক সাফল্য সারাবিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী পাঠের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডসহ নানা সহপাঠ কার্যক্রমে সর্বদা উদ্বুদ্ধকরেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব দল গঠন করা হয়েছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনে প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

২০১১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে প্রতিবছর স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে মেয়েরা আজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিশ্বে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
স‌র্বোপ‌রি ৪র্থ শিল্প বিপ্ল‌বের পৃ‌থিবী‌তে শিশুদের যোগ‌্য নাগ‌রিক হি‌সে‌বে গ‌ড়ে তুল‌তে বর্তমান সরকা‌রের ঐকা‌ন্তিক প্রচেষ্টায় প্রাথ‌মিক শিক্ষা এগি‌য়ে যা‌চ্ছে অদম‌্য গ‌তি‌তে।

লেখকঃ সহকারী শিক্ষক, ত্রিশাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরি অন্যান্য নিউজ