কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা পশ্চিমপাড়ায় এওয়াজ বদল করা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া জমি পুনরায় বিক্রি ও জোরপূর্বক দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রইছ মিয়া ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. মজিবুর রহমান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে গোছামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান ও আক্তার হোসেন লিখিত বক্তব্যে তাঁদের অভিযোগ তুলে ধরেন।
তাঁদের দাবি, প্রায় ১৬ বছর আগে একই গ্রামের রইছ মিয়ার সঙ্গে এওয়াজ বদলের মাধ্যমে জমি অদলবদল হয়। ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর ৭৫৩৩ নম্বর এওয়াজ বদল দলিলের মাধ্যমে তিনি জমিটি পান এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
দলিল সম্পাদনের সময় সামান্য ভুল থাকায় পরবর্তী সময়ে তিনি ভুল সংশোধনের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হন। এ নিয়ে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় রইছ মিয়া তাঁর নামে নিবন্ধিত এওয়াজ বদলকৃত জমি ফুল মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিক সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১১ নভেম্বর পুনরায় সালিশি বৈঠকের দিন ধার্য রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
মজিবুর রহমানের আরও অভিযোগ, সালিশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই রইছ মিয়া, ফুল মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে মজিবুর রহমান কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারাসংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি ১৩৩১/২৬ নম্বরে উল্লেখ রয়েছে।
এব্যাপারে আদালত থেকে উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে অনধিকার প্রবেশ ও শান্তিভঙ্গের চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি ১৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ আদালতে হাজির হওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী মজিবুর রহমান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের জমির অধিকার সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।