২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি| দুপুর ২:২৪| বসন্তকাল|
শিরোনাম:
মনোহরদীতে ফসলি জমির মাটি কাটায় ভেকু ও ট্রলি জব্দ মনোহরদীতে ৭টি অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা শীতের রাতে কম্বল নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে মনোহরদীর ইউএনও নরসিংদী-৪ আসনে প্রস্তাবকারীর স্বাক্ষর জাল করায় এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ ও ফেন্সিডিল জব্দ ভৈরবে সাড়ে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই বোন আটক পাইকগাছায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে বড়দিন উদযাপন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর হলেন সৈয়দ জেনিথ রায়হান মনোহরদীতে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটায় পাঁচজনের কারাদণ্ড মনোহরদীতে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে ব্র্যাকের আয়োজনে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বেশি দামে জমি না কেনায় মাটি বিক্রি, ঝুঁকিতে বসতঘর

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, মার্চ ৩১, ২০২৪,
  • 162 Time View

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাজারদরের চেয়ে চারগুণ বেশি দামে জমি বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে নিজ জমি গভীর খনন করে তিনপরিবারের বসতঘর ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের।

সম্প্রতি ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গ্রামের বাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন একই গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাকিবুল হাসান। এবিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরও একটি অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে ও ভুক্তভুগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, খননকৃত জমির আশেপাশে জমির বাজারদর আড়াই লাখ টাকা থাকলেও বাছির উদ্দিন রাকিবের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা কাঠা দাবি করেন। এ দামে জমি না কিনলে গভীর খননের মাধ্যমে রাকিবদের বসতঘর ঝুঁকিতে ফেলারও হুমকি দেয় সে।

এতে বাধ্য হয়ে পাকা বসতঘর বাঁচাতে চার লাখ টাকা কাঠা পর্যন্ত দাম দিতে রাজি হলেও জমির মালিক রাজি না হয়ে স্থানীয় একটি ইটভাটায় ১৪ শতাংশ জমি ১২ ফুট গভীর খনন করে মাটি বিক্রি করে দেয়। এতে খননকৃত জমির পাশের তিন পরিবারের বসতঘর ঝুঁকিতে পড়েছে। যেকোনো সময় ধ্বসে পড়তে পারে বসতঘর, ঘটতে পারে প্রাণহানি। ঘর ধ্বসে পড়ার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পরিবার গুলো।

ভুক্তভোগী পরিবার গুলো তাদের থাকার ঘর রক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে বাছির উদ্দিন বলেন, ‘জমির দাম আছে দশ লাখ টাকা কাঠা, তারা দিতে চাই কম। চেয়ারম্যানের ছেলে এবং গ্রামের পাঁচজন মিলে একটা রফাদফা করেছিল। তারা সেটা মানেনি। আমার আগেই এটা খনন করার একটা ইচ্ছা ছিল। আমার জায়গা আমি খনন করেছি। তারাও যদি চার হাত রেখে ঘর করতো তাহলে তো সমস্যা হতো না।’

জমি ক্রয় না করায় আপনি ইচ্ছে মতো খনন করে আরেকজনকে বিপদে ফেলতে পারেন? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার জমি আমি খনন করেছি। এখন আমি কি করতে পারি আপনিই বলেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রাকিব বলেন, ‘আমাদের পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে আমার বাবা দীর্ঘদিন বিদেশ করে এই বাড়িটি নির্মাণ করেছেন। এটুকুই আমাদের একমাত্র সম্বল। এখন থাকার এই ঘরটিও যেকোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে। বৃষ্টি হলে বিপদ আরও বাড়বে। বসতঘর ধ্বসে পড়ার ভয়ে আমরা তিন পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি। এর আগে বাজারদরের চারগুন জমির দাম দাবি করে বিভিন্ন জনের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে বলেছিল বেকু দিয়ে (খনন যান্ত্র) জমি খনন করে ফেলবে। কিন্তু আমাদের তো এতো বেশি দাম দিয়ে কেনার সামর্থ নাই। খনন করার সময় বাঁধা দিলে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকির জন্য আর ঘর থেকে বেরই হতে পারিনি। উনি উনার জমি খনন করবে ঠিক আছে কিন্তু উনিকি আমাকে মাইরা উনার জমি খনন করতে পারে, দেশে কি আইন নাই?’

বালিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ বাদল বলেন, ‘এই পরিবার গুলোর সাথে যা হচ্ছে তা চরম অন্যায়। বিষয়টি জানতে পেরেই আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বাছির কারও কথা শুনছে না। সে জমির দাম বাজারদরের চাইতে অনেক বেশি দাবি করেছিল।  সে একটা চরম বদমাইশ। যেকোন সময় বসতঘর ধ্বসে লোকও মারা যেতে পারে। আমি তাকে ডেকে পাঠিয়ে নোটিশ করবো।’

ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুয়েল আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আবেদন পেয়েছি। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও অভিযুক্ত ব্যাক্তির সাথে তাৎক্ষণিক কথা বলেছি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান করতে বলেছি। সমাধনা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরি অন্যান্য নিউজ