মহিউদ্দিন রানা, নিজস্ব প্রতিবেদক (ময়মনসিংহ) : ভালো করে পরীক্ষা দিস, রেজাল্ট যেন ভালো হয়।’ বোন তাসলিয়া ইসলামকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই এ কথাই বলতেন ভাই আফতাব শাহরিয়ার মাহির। নিজের মোটরসাইকেলে করে বোনকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যেতেন, আবার পরীক্ষা শেষে আনতেন।
আজ ১০ আগস্ট। তাসলিয়ার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন। ফলও ভালো হয়েছে। কিন্তু যে ভাইটি ফল প্রকাশের দিন সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা, সেই মাহিরই আজ নেই। ফল প্রকাশের পর ভাইয়ের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাসলিয়া ও তাঁর মা মুক্তা আক্তার। তাঁদের কান্না যেন থামছেই না।
মাহিরকে হারানোর দুই মাস ১১ দিন পেরিয়ে গেছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তাঁর বাবা-মা এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি। মাঝেমধ্যেই ঘুমের মধ্যে ‘মাহির, মাহির’ বলে চিৎকার করে ওঠেন মা মুক্তা আক্তার। ছোটবোন তাসলিয়াও আগের মতো নেই। ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই অনেকটা চুপচাপ হয়ে গেছেন তাসলিয়া।
ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী সে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২২ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিদ্যালয়টির পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল সোহাগী ইউনিয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। প্রতিদিন বোনকে মোটরসাইকেলে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যেতেন মাহির। সেই বোনের ফল প্রকাশ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নেই মাহির। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাসলিয়া ইসলাম বলেন, আমার ভাই বেঁচে থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতো। ভাইয়ের স্নেহমাখা স্মৃতিগুলো কিছুতেই ভুলতে পারছি না।
মাহিরের মামা তফাজ্জল হোসেন সোহেল বলেন, মাহির সবার খুব আদরের ছিল। তার এভাবে চলে যাওয়ায় পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। ভাগনির ফল প্রকাশের পর থেকে মা-মেয়ের কান্না যেন থামছেই না। আল্লাহ যেন আমার ভাগিনাকে সর্বোত্তম বেহেশত নসিব করেন।
এর আগে গত (৩০ মে) মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন আফতাব শাহরিয়ার মাহির (২০)। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মাহির নান্দাইল উপজেলার মুসল্লী গ্রামের আব্দুল কাইয়ূম রেনু মিয়ার ছেলে। বাবা-মা ও ছোটবোনের সঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়ায় থাকতেন মাহির।