উপকূলীয় জনপদ পাইকগাছা পৌরসভায় এখন দৃশ্যমান উন্নয়নের নতুন জোয়ার। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে একটি আধুনিক, টেকসই ও নিরাপদ নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে কোস্টাল টাউনস ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (সিটিসিআরপি)। আর এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত নতুন সড়কগুলো ইতোমধ্যেই বদলে দিতে শুরু করেছে পৌর এলাকার দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার লোনাপানি কেন্দ্রের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন আলোকদি স্লুইস গেট থেকে খালেক কাশারির বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিটার দীর্ঘ ঢালাই সড়কের নির্মাণকাজ এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকা সড়কটি নতুনভাবে নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ফিরেছে স্বস্তি ও আশার আলো। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন এবং বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর যৌথ অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর তত্ত্বাবধানে পাইকগাছা পৌরসভা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় চলমান এ সড়ক নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৪৮ টাকা।
জানা গেছে, গত বছরের ২০ এপ্রিল চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়। যদিও প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে, তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “নিশিত বসু” নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করতে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে থানার সামনে থেকে পুরাতন খাদ্যগুদাম পর্যন্ত ৭১০ মিটার পিচ কার্পেটিং এবং শিববাটি ব্রিজ থেকে লোনাপানি কেন্দ্রের শেষ সীমানা পর্যন্ত ২১৯০ মিটার সড়কের পিচ কার্পেটিংয়ের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নাগরিকদের চলাচলে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ভাঙাচোরা সড়কের কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচল ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমানে উন্নয়নকাজ দৃশ্যমান হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এই উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই সড়ক নির্মাণ ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাইকগাছা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সিটিসিআরপি প্রকল্পের মাধ্যমে পাইকগাছা পৌরসভাকে একটি জলবায়ু সহনশীল, আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরে রূপান্তরের কাজ চলছে। উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ কমিয়ে নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
এদিকে এলাকাবাসী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে পাইকগাছা পৌরসভা ভবিষ্যতে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও উন্নত নগর হিসেবে গড়ে উঠবে।
উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৮টি সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৪টি সড়কের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৩২ লাখ ৭৮ হাজার ২১০ টাকা ১৯ পয়সা।