আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে গবাদি পশু ক্রয়-বিক্রয়, চামড়া ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন, জাল নোটের ব্যবহার রোধ, সড়ক, রেলপথ ও নৌপথে যাত্রীসাধারনের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করাসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট স্টকহোল্ডারদের নিয়ে “নিরাপত্তা সমন্বয় সভা” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (১৭ মে ২০২৬) বিকেলে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনস মাল্টিপারপাস শেডে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী।
সভায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিগণ আলোচ্য বিষয়ের উপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি কোরবানির পশুর হাটে থানার নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম, জাল নোট সনাক্তকরণ বুথ, ওয়াচ টাওয়ার ও মেডিকেল ক্যাম্প।
এছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারি, মানি এস্কর্ট এবং স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাও চালু থাকবে।
পশুর হাটকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা। কোনো অসাধু চক্র যাতে পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক নির্দিষ্ট হাটে নিতে বাধ্য করতে না পারে, অনুমোদিত হাট ছাড়া অন্য কোথাও অবৈধ পশুর হাট বসাতে না পারে কিংবা অবৈধ খুঁটির ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি থাকবে।
একইসঙ্গে পশুবাহী খালি ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রাখতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনকে কেন্দ্র করেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ও মনিটরিং ব্যবস্থা।
চামড়া পাচার রোধে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, কোনো এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি রোধ এবং চামড়া পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয়ের সময় চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
এছাড়াও নগরীর প্রতিটি ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের ছুটিকালীন সময়ে আবাসিক এলাকাসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ ফেরদৌস আলী চৌধুরী, বিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) মোঃ হাবিবুর রহমান প্রাং (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ, পিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত)।
এছাড়াও সিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।