১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি| রাত ৪:৪৯| গ্রীষ্মকাল|
শিরোনাম:
পাইকগাছায় রাতে দোকান খোলা রাখায় জরিমানা সড়ক তুমি কার—পৌরসভা না এলজিইডি? ৫০ মিটারেই থমকে জনজীবন ১১ বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত দুই শিক্ষিকা! চট্টগ্রামে মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় শ্রমিক দলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ঢাকা থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করলেন ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ পুলিশের ভুলভ্রান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সেটি নেতিবাচক দেখি না- সিএমপি কমিশনার পাইকগাছায় আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের ফেজ-আউট সভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ ত্রিশালের এসিল্যান্ড ময়মনসিংহ জেলার দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা ভৈরবে শিমুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব না দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন

পাকুন্দিয়াবাসীর দুঃখ পৌর সদরের প্রধান সড়ক

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, জুন ২২, ২০২৩,
  • 413 Time View

আছাদুজ্জামান খন্দকার, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কোথাও ছোট, কোথাও বড়, অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টিতে পানি-কাদায় একাকার গর্তগুলা। দিন দিন এসব গর্ত গাড়ীর চাকার চাপে ভাঙতে ভাঙতে আরও বড় ও গভীর হচ্ছে। তাতে প্রতিনিয়তই উল্টে যাচ্ছে যানবাহন।

আহত হচ্ছে যাত্রী। কাদা-পানি মাড়িয়ে হেঁটে চলতে গিয়ে পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে পথচারী। নষ্ট হচ্ছে পড়নের কাপড় ও জুতা। এমন দুঃখ, দুর্ভাগ ও ভোগান্তি নিয়েই চলাচল করছে হাজারো মানুষ। বিকল্প সড়ক না থাকায় তাদের এ দুঃখের যেন শেষ নেই।
এ চিত্র পাকুন্দিয়া-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাকুন্দিয়া বাজার থেকে মৌসুমী সিনেমা হল পর্যন্ত। প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি পাকুন্দিয়া উপজলাসহ আশপাশের উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের দুঃখ ও ভোগান্তির কেদ্রবিদু হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় লোকজন সড়কটি সংস্কারের জন্য বার বার দাবি জানালেও তা হচ্ছে না। এ সড়ক পৌরসভা এলাকার মধ্যে পড়লও তা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীন। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধর সড়কটি সংস্কার হচ্ছে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পৌর শহরের পাকুন্দিয়া থানার সামনে থেকে মৌসুমী সিনেমা হল পর্যন্ত সড়কটি জুড়ে খানা-খন্দ। ইটের খোয়া, বালু ও পাথর সরে গিয়ে নষ্ট হওয়া গর্তে জমে আছে পানি।

এই এক কিলোমিটার সড়কে ছোট-বড় শতাধিক গর্ত। গর্তগুলো দেখ মনে হয় যেন ছোট-খাট জলাশয়। কিছু গর্ত দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত গভীর।

ফলে যানবাহনগুলো চলছে ঝুঁকি নিয়ে। সড়কটির ডান ও বাম পাশে রয়েছে পাকুন্দিয়া থানা, উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ, পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ, পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পাইলট বালিকা উচ বিদ্যালয়, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মডেল মসজিদ, আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ, উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও বিদ্যুৎ অফিসসহ সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়।

এছাড়া এ পথে উপজেলার চরফরাদি, এগারসিন্দুর, বুরুদিয়া ইউনিয়নের লোকজন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ সদর, করিমগঞ্জ, তাড়াইল ও নান্দাইল উপজলার লোকজন নিয়মিত চলাচল করেন।
পাকুন্দিয়া বাজারের ব্যবসায়ী দিদারুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘সড়কটি এখন পাকুন্দিয়াবাসীর দুঃখে পরিণত হয়েছে। খানা-খন্দে ভরা সড়কে বৃষ্টির পানি জমে একাকার হয়ে পড়েছে। কাদাপানি মাড়িয়ে জুতা পায়ে হেঁটে যাওয়া যায় না। গাড়ির চাপ কাদাপানি ছিটকে শত শত মানুষের জামা-কাপড় নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার কাপড় পরিবর্তন করতে হয়।’

বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আগে সড়কটি ভাঙাচোরা থাকলেও চলাচল করা যেত। এখন এ সড়ক দিয়ে হাঁটাও যাচ্ছে না। এবারের বর্ষায় খানা-খন্দগুলা রুপ নিয়েছে বড় বড় গর্তে। গাড়ীর চাকার চাপে ভাঙতে ভাঙতে গর্তগুলা আরও গভীর ও প্রশস্ত হচ্ছে। সিএনজি, অটোরিক্সা, ইজিবাইক, রিক্সা, মোটরসাইকলসহ বিভিন যানবাহন প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে। আহত হচ্ছে যাত্রী ও পথচারী।’

সদর ঈদগাহ মার্কেটের বিকাশ ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ লোহানী ডাবলু বলেন, ‘চার-পাঁচ বছর ধরে সড়কের এই অংশটুকু খুবই যন্ত্রনাদায়ক। প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রায়ই গাড়ী উল্টে গিয়ে আহত হচ্ছে যাত্রীরা। প্রায় সময়ই আমরা দৌড়ে গিয়ে উল্টে যাওয়া গাড়ীকে ধাক্কা দিয়ে গর্ত থেকে উঠিয়ে দেই। আহত যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সড়কটি দ্রুত মেরামত না করলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে।’
অটোরিক্সা চালক পলাশ মিয়া বলেন, ‘এবারের বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে ভাগান্তি আরও বেড়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই গর্তসহ সড়কে পানি জমে যায়। এর ফলে কোনটা ছোট গর্ত আর কোনটা বড় গর্ত তা বুঝার উপায় থাকে না। ফলে গাড়ি উল্টে যায়। এতে গাড়িরও ক্ষতি হচ্ছে, যাত্রীরাও আহত হচ্ছে। আমরা এই সড়কটির দ্রুত মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়র মো. নজরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘এ সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। এই সড়ক পৌরসভার পক্ষ থেকে উন্নয়নমূলক কোন কাজ করার সুযোগ নেই। তবে সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার সাহবকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কেন যে তারা কাজটি করতে গড়িমসি করছে!’

এ বিষয়ে জানতে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৗশলী রীতেশ বড়ুয়াকে মুঠোফানে পাওয়া যায়নি ।

তবে উপ-সহকারি প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য ঠিকাদারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির জন্য কাজটি শুরু করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি কমলেই অতি দ্রুত এ কাজ শুরু করা হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরি অন্যান্য নিউজ