ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: চার বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও বোনকে হারানো ফাতেমার পরিবারের পাশে আবারও দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ, ঘরের জন্য নতুন টিন এবং মুদি দোকানের মালামাল প্রদান করা হয়েছে পরিবারটিকে।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ফাতেমার নিহত বাবা-মা ও বোনের কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি গ্রামে গিয়ে ফাতেমার দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের হাতে সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
তাদের মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহাবুবুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাইমুল করিম লুইন এবং প্রেসক্লাব ত্রিশালের সভাপতি ইমরান হাসান বুলবুল।
পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর এই সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাইমুল করিম লুইন বলেন, “২০২২ সাল থেকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করেও পরিবারটির জন্য নিয়মিত মাসিক বাজার পাঠিয়েছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি পরিবারটিকে ভুলে যাননি। আজকের উপহার সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। পাশাপাশি ফাতেমার অবশিষ্ট ভাই-বোনদের পড়াশোনার বিষয়েও খোঁজখবর রাখছেন তিনি।”
ফাতেমার দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, “আমার ছেলে, পুত্রবধূ ও এক নাতনি নিহত হওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান সাহেব আমাদের নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন। এতে আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। ফাতেমা বর্তমানে ঢাকার আজিমপুর ছোট্টমনি নিবাসে ভালো আছে। সরকারিভাবে তার দেখভাল করা হচ্ছে। আমরা প্রতি মাসে একবার গিয়ে তাকে দেখে আসি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ফাতেমার দাদার জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি তাদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা পাকাকরণ এবং রাস্তাটির নাম ফাতেমার নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এরই অংশ হিসেবে আমরা ফাতেমার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ, নতুন টিন এবং দোকানের পুঁজি হিসেবে কিছু মালামাল দিয়েছি। ফাতেমার আরও দুই ভাই-বোনের পড়াশোনার ব্যবস্থাও করা হবে। এছাড়া তাদের বাড়ির যাতায়াতের রাস্তা দ্রুত সংস্কার করা হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই ত্রিশাল উপজেলার রায়মনি এলাকায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না বেগম ও ছয় বছর বয়সী মেয়ে সানজিদাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে ফেরার পথে সড়ক পার হওয়ার সময় বেপরোয়া একটি ট্রাকের চাপায় নিহত হন দিনমজুর জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী ও কন্যা। দুর্ঘটনার সময় রত্না বেগমের গর্ভ থেকে জীবিত অবস্থায় জন্ম নেয় শিশু ফাতেমা। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। পরে তারেক রহমান পরিবারটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২২ সাল থেকে নিয়মিত সহায়তা প্রদান করে আসছেন। ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন দম্পতির বড় মেয়ে জান্নাত ও ছেলে এবাদত।