
ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌর এলাকায় টানা পাঁচ দিন ধরে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বকেয়া বেতন ও ঈদ প্রণোদনা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে কর্মবিরতি পালন করছেন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী জানান, তারা দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কাজ করেন এবং এই আয়ের ওপরই তাদের পরিবার নির্ভরশীল। কিন্তু গত এক মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। এতে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ঈদ প্রণোদনার টাকা ৩৩ জন কর্মীর মধ্যে মাত্র ৯ জনকে দেওয়া হয়েছে, বাকিদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে ঈদের পর দুই দিন কর্মবিরতি পালন করলে উল্টো তাদের বেতন আটকে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘুরে দেখা যায়, দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ড, পাকজাহান লাইব্রেরি মোড়, চকবাজার মোড় ও গোহাটা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ময়লার স্তুপ জমে আছে।
গরু ও কুকুর এসব ময়লা ছড়িয়ে দেওয়ায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। এতে মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়ে গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দরিরামপুর এলাকার বাসিন্দা হারুনুর রশীদ বলেন, “কয়েকদিন ধরে ময়লা পরিষ্কার করা হচ্ছে না। দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠেছে। কেন কাজ বন্ধ রয়েছে, তা আমরা জানি না।”
পৌরমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, “ময়লার স্তুপ জমে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।”
পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত গাড়িচালক তাজাম্মুল ঈদ প্রণোদনার টাকা না পাওয়ার দাবি করে বলেন, ৩৩ জন কর্মীর মধ্যে মাত্র ৯ জন ঈদ প্রণোদনা পেয়েছেন। আমি সহ বাকিরা কেন পাননি, তা আমি জানি না।”
তবে পৌর পরিচ্ছন্নতা সুপারভাইজার সুরুজ মিয়া বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, “বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মীরা কাজে আসছেন না। ফলে গত পাঁচ দিন ধরে ময়লা অপসারণ বন্ধ রয়েছে।”
এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নওশীন আহমেদ বলেন, আগামীকাল থেকেই ময়লা পরিষ্কারের কাজ পুনরায় শুরু হবে। তবে বেতন ও ঈদ প্রণোদনার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি এবং বলেন, এ ব্যাপারে পৌর প্রশাসক ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলেন।
এ বিষয়ে ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অযৌক্তিকভাবে বেতন বৃদ্ধির দাবি তুলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কর্মবিরতি পালন করছে।
বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। ইনশাল্লাহ আগামীকাল থেকেই ময়লা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হবে—প্রয়োজনে বর্তমান কর্মীদের মাধ্যমে অথবা বিকল্প ব্যবস্থায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে বসার জন্য বলেছি। যদি তারা আজ রাত থেকেই কাজে ফিরে আসে, তাহলে আগামীকাল সকালে তাদের বেতন পরিশোধ করা হবে। আমার ধারনা পিছন থেকে তাদের কেউ ইন্ধন দিচ্ছে।”