
আশি ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহুরে ঘরে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল সাদাকালো টেলিভিশন এবং বিসিআর (ভিডিও ক্যাসেট রেকর্ডার)। রেডিও সেই সময়ে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।
কিন্তু সেই সময় গত হয়েছে অনেক আগেই। পর্যায়ক্রমে আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে এসেছে রঙিন টিভি, স্মার্ট এলইডি টিভিসহ অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রাংশ।
এদিকে আধুনিকতার এই সময়ে এসেও হারানো দিনের স্মৃতি ধরে রেখেছেন মঞ্জুরুল হক (৬৫)। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় বাসার সামনেই অন্তত ৪০ বছর ধরে পুরোনো সাদাকালো এবং রঙিন টিভি, ভিসিআর ও অন্যান্য যন্ত্র মেরামতের কাজ করছেন তিনি।

একদিকে বয়সের ভার অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তির আধিপত্যে কাজের পরিমাণ কমে গেলেও, এখনও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর কাছে টিভি নিয়ে ছুটে আসে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর সংগ্রহশালায় রয়েছে আশির দশকের সাদাকালো টিভি, বিসিআর, রেডিও, সিডিআরসহ নানান ধরনের যন্ত্রাংশ। বর্তমান সময়ে যেগুলো দুর্লভেই বলা চলে।
পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামের সত্তোর্ধ্ব বাসিন্দা মো. নাজিম উদ্দীন বলেন, আমি আশি কিংবা নব্বই থেকেই মঞ্জু মেকারের দোকানের সঙ্গে পরিচিত। তখন আমাদের গ্রামের মানুষ টিভি, বিসিআর বা রেডিও ঠিক করতে তাঁর কাছেই যেত।
এখন সময় বদলেছে—নতুন স্মার্ট টিভি আর অনলাইন ভিডিও চলে এসেছে। তবুও মঞ্জু মেকারের কাছে গিয়ে পুরোনো যন্ত্র ঠিক করানোর আনন্দ আলাদা; পুরোনো দিনের স্মৃতি যেন ফিরে আসে।
তাঁর হাতের ছোঁয়ায় নষ্ট হয়ে যাওয়া যন্ত্রগুলো আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে। বহু বছর ধরে তিনি আমাদের এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন—একজন সত্যিকারের সময়ের সাক্ষী।
আলাপকালে মঞ্জু মেকার বলেন, আমি আশির দশক থেকে টিভি, সিডি, বিসিআর, রেডিও এবং অন্যান্য যন্ত্র মেরামতের কাজ করছি। আমার আগে অনেকেই এই পেশায় ছিলেন ।
যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় অনেকে এ পেশা ছেড়েও দিয়েছেন। কারণ, স্মার্ট বা এলইডি টিভি মেরামতের জন্য যে ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, সেটি আমার কাছেও নেই। এ কারণে আমার দৈনন্দিন কাজও আগের মতো নেই; এখন শুধু পেশাটি ধরে রাখার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, মানুষের কাছে এই কাজ এখনও গুরুত্বপূর্ণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আমার কাছে টিভি বা অন্যান্য যন্ত্র নিয়ে আসে। প্রতিটি মেরামত আমার কাছে শুধু যন্ত্র ঠিক করার কাজ নয়—এটি যেন হারানো দিনের স্মৃতি জীবন্ত রাখা।
তাছাড়া আমার সংগ্রহশালায় আজও রয়েছে আশির দশকের সাদাকালো টিভি, বিসিআর, রেডিও, সিডিআর এবং নানা ধরনের যন্ত্রাংশ, যা আজ প্রায় হারিয়ে গেছে। এগুলোকে আমি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করে রেখেছি, যেন নতুন প্রজন্মও দেখতে পায় পুরোনো দিনের বিনোদনের ছোঁয়া।