২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৪শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি| সকাল ৬:৪০| বসন্তকাল|
শিরোনাম:
বেলাবোতে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আনন্দ মিছিল রাণীশংকৈলে পিআইওর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ভৈরবে বৈধ রশিদ ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীর জরিমানা বেলাবোতে ছাত্রদলের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ পদবঞ্চিতদের ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ২০ পাইকগাছায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সোহেল ইউএনওর মানবিকতায় অন্তঃসত্ত্বা পরিচয়হীন নারীর ঠাঁই হলো আশ্রয়ন কেন্দ্রে দীর্ঘ ২২ বছর পর বেলাবো উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন, সভাপতি মামুন সম্পাদক মোফাজ্জল পাইকগাছায় অবৈধ নেট-পাটা উচ্ছেদ

পাখির প্রজনন লড়াই

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, মার্চ ৩১, ২০২৪,
  • 179 Time View

এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা প্রতিনিধি:

পাখি বাসা তৈরি থেকে বাচ্চা  উড়তে শিখা পর্যন্ত বিপদসঙ্কুল পরিবেশের সাথে লড়াই করে করতে হয়।নানা প্রতিকুল পরিবেশে বিপদসঙ্কুল সময় পেরিয়ে বাচ্চাদের উড়াতে পারলে পাথিদের প্রজনন স্বপ্ন পূরণ হয়।

পাখির বাসা কথা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে গাছের ডালে খড়কুটোয় তৈরি এক ধরনের শিল্পকর্ম। এক একটা পাখির বাসা দেখলে অবাক হয়ে যেতে হয়, পাখির বাসা তৈরিতে কতো বুদ্ধি খরচ করেছে, আর মেহনতই বা করেছে কতো।

পাখি প্রজননের জন্য, তারা একটি বাসা বানাতে শুরু করবে, এতে ডিম পাড়বে, ডিম   ফোটাবে, ছানাগুলিকে পালানোর জন্য যথেষ্ট বয়সে নিয়ে আসবে এবংবাচ্চা উড়তে শেখার  পরে সবাই বাসা পরিত্যাগ করবে। বাচ্চা উড়তে শিখার আগ পর্যন্ত পাখি বাচ্চাকে আধার এনে খাওয়াবে।

পরিবেশ,প্রকৃতি ও পাখি নিয়ে কাজ করেন পাকইগাছায় পরিবেশবাদী সংগঠণের সভাপতি সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান।চলতি পাখির প্রজনন মৈৗসুমে তার বাড়ির পাশে একটি গাছের ডালে টুনটুনি পাখি দৃস্টিনন্দন বাসা তৈরি করে।

বাসা তৈরির পর থেকে তিনি টুনটুনি পাখির গতিবিধি পর্যাবেক্ষণ করতে থাকেন। বাসা তৈরির পরে দুটি ডিম পাড়ে পাখি। মা পাখি তা দেওয়া থেকে উঠে খাবারের সন্ধানে বের হওয়ার সুযোগে একটি কানাকোয়া বাসায় হানা দিয়ে একটি ডিম খেয়ে ফেলতে দেখলে তিনি তাড়া দিলে কানাকোয়া পালিয়ে যায়।

এরপর তিনি পর্যাবেক্ষণের সময় আরও বাড়িয়ে দেন।এরমধ্যে ডিম ফুঠে বাচ্চা বের হয়। দুটি টুনটুনি পাখি সারদিন পালাক্রমে বাচ্চাকে আধার খাওয়াতে থাকে। পাখির বাচ্চার গয়ে ছোট ছোট পালক গজাতে শুরু করেছে।

আর কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো উড়তে পারবে। বাচ্চাটি কিট কিচ করে ডাকাডাকি করে।এর মধ্যে একদিন টুনটুনি খাবার নিয়ে বাসায় না এদিক ওদিক ওড়াউড়ি করছে। আর বাচ্চার কোন ডাক শুনতে না পেয়ে তিনি গাছে উঠে দেখেন বাসাটি লাল পিপড়ায় ভরা আর বাচ্চার কঙ্কাল পড়ে আছে বাসায়। লাল পিপড়া বাচ্চাটি খেয়ে ফেলেছে।

শিকারী পাখিকে তাড়া করতে পারলেও পিঁপড়ার আক্রমন থেকে পাখি বাচ্চকে কোন রকমে বাচাতে পারেনা। চার-পাঁচ দিন টুনটুনি পাখি বাসা পাশে এসে উড়াউড়ি করে ও ডাকতে থাকে।এভাবে পাখির প্রজনন সপ্ন হারিয়ে যায়।

বাসা তৈরি থেকে বাচ্চা উড়তে শিখার আগ পর্যন্ত পাখিদের নানা বাধা ও বিপদসঙ্কুল সময় কাটাতে হয়।মাংশসী পেঁচা পাখি যে গাছে অবস্থান নেয় সেই গাছে অন্য পাখিরা ভয়ে বাসা বাধেনা। অনেক শিকারী পাখি খুব সহজে পাখির ডিম ও বাচ্চা খেয়ে ফেলে।

তাই গাছের মগডালে বাসা করে সেখানে ডিম পেড়ে সন্তানের মুখ দেখার আশায় দিনের পর দিন তা দিয়ে যায় মা পাখি। পাখির বাসায়  সুযোগ বুঝে হানা দিয়ে সাপ, মাংসাশী পাখি কাক, চিল, কানাকোয়া বা কুবো ডিম ও বাচ্চা খেয়ে ফেলে। ডিম থেকে বাচ্চা বের হওয়ার পর মাংসাশী পিপড়ারাও বাচ্চা খেয়ে ফেলে। আর শিকারীর উৎপাত তো আছে। মা পাখিটির সব পরিশ্রম ধুলোয় মিশে যায়। পড়ে থাকে শূন্য বাসা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরি অন্যান্য নিউজ